ভালবাসা নিয়ে খেলা play girl vs friend ৩য় পর্ব
-একটু দেরি হয়ে গেল তাই না ।(আমি)
-আরে না । এটুকু দেরি হতেই পারে ।(অধরা)
আচ্ছা তুমি কিছু বলতে চেয়েছিলে ?
-আসলে আমি আপনাকে না বুঝেই থাপ্পড় টা দিয়েছি ।ভেবেছিলাম আপনিও আর ৫টা ছেলের মতো ।আসলে বর্তমান যুগে ভালো ছেলেদের খুঁজে পাওয়া বিরল । প্লিজ ক্ষমা করে দিয়েন ।
-আরে আমি কিছু মনে করিনী ।আসলে ভুল মানুষেরই হয় ।
-আচ্ছা আপনাকে একটা কথা বলি ?
-হ্যাঁ বলো ।কি বলতে চাও ?
-আমি কি আপনাদের ব্লাড ব্যাংকের সদস্য হতে পারি?
-অবশ্যই ।এটা তো খুশির খবর ।কালকে আমাদের ক্যাম্পে চলে এসো ।
-আপনাকে আরেকটা ব্যাক্তিগত কথা জিঞ্জাসা করতে পারি?
-ব্যক্তিগত কথা ।আচ্ছা বলো!
-আপনার কোনো গার্লফ্রেন্ড নেই?
-হঠাত্ এ প্রশ্ন ?
-না মানে আপনার সব বন্ধুদেরই তো গার্লফ্রেন্ড আছে ।কিন্তু আপনার নেই এজন্য?
-না এখন পর্যন্ত তেমন কাউকে পায়নি ।
-আচ্ছা আপনার কেমন মেয়ে পছন্দ ?
-একেবারে দেশি সাংস্কৃতিক মেয়ে ।যেসব মেয়েরা জিন্স,টপ পড়ে তাদেরকে আমার একদমই বিরক্ত লাগে.
এই বলে আমি উঠতে চাইলাম আর আমাকে ওখান থেকে উঠতে দিল না..আমি বসেই থাকলাম.. একটু সময় দুজনে চুপ হয়ে গেলাম.. মনে হচ্ছি লো যেন.. আমি পাএী দেখতে এসে সি.. এ ভাবে দুইজন দুজন কে কীভাবে চিনব বলো.. অবশেষে আমি বললাম.. এভাবে ডাক দিয়ে আমাই.. ওমন করে বসে থাকা টা কি ঠিক..জবাবে অধরা.. রেগে বললো হ্যা ঠিক.. এত তারা কিষের তোমার.. আমি.. আমার তো আর তোমার মতন বসে বসে ঘাস দেখার ইচ্ছা নেই.. মজা করে বললাম.. অধরা. কি আমি ঘাস দেখছি.
হুমমমম..
তা নয় তো কি??
আরে আমি তো যা দেখতে চাই.. তাই তো দেখছি.অধরা
.আমি ও আচ্ছা ঘাস দেখতে এতই ভাল লাগে তোমার.. লাগবে তো.. ঘাস তো কোন দিন দেখনি..
.অধরা.. একটু হেসে না আমি তো দেখিনি তুমি তো দেখছো.. তো তুমি ঘাস গুলো খাও আমি..আমি খাব ওকে..
মনে মনে..এখন নিজেকে বাচাতে হবে এই পাগলির হাত থেকে...
..ফোন টা হাতে নিয়ে হ্যা দোস্ত বল...........ওক
.এইযে অধরা আমি
. আজকে উঠি ।এখন আবার হাসপাতালে যেতে হবে ।
-হাসপাতালে কেন ?
একজন রোগীর রক্তের জন্য ।আজকে উঠি ?
.
.
অতঃপর উঠে এলাম ।সত্যি কথা বলতে এসব রক্ত টক্ত কিছুই লাগবে না ।আসলে ওখানে বসে থাকতে আমার খুব অস্বস্তি হচ্ছিলো । রাস্তা পার হতে যাব ঠিক সেই সময় দ্রুতগামী একটা সিএনজি এসে ধাক্কা দিলো ।ধপাস করে রাস্তার উপর পড়ে গেলাম ।তারপর আমার আর কিছু মনে নেই । জ্ঞান ফিরে নিজেকে হাসপাতালের বেডে আবিষ্কার করলাম ।ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস ।ওখান থেকে হাসপাতালের নাম নিয়ে বেড়িয়ে এলাম আর এটা এখন বাস্তবায়ন হয়ে গেল ।চোখ মেলে দেখি পাশে বাবা-মা,বন্ধুরা
.
.
-আমি এখানে এলাম কিভাবে?
-এক্সিডেন্ট করে রাস্তায় পড়ে ছিলি ।তারপর তোকে এখানে এনে ভর্তি করা হয়েছে । রাস্তাটাও দেখে পার হতে পারিস না ।(মা)
-তা আমাকে এখানে নিয়ে এল কে ?
-ঐ মেয়েটা ।(অধরাকে দেখিয়ে)
-ও তুমি । কিন্তু আমাকে রক্ত দেওয়া হচ্ছে কেন?
-আপনার অনেক রক্তক্ষরন হয়েছে ।সময়মতো রক্ত না পেলে আমাদের কিছুই করার থাকতো না ।(ডাক্তার)
-এই গ্রুপের রক্ত তো আমাদের ব্লাড ব্যাংকেও নেই ।কে দিলো আমায় রক্ত ?
-ঐ মেয়েটা (অধরাকে দেখিয়ে) ।
-তোমাকে অনেক ধন্যবাদ ।জানি না তোমার এ ঋন কিভাবে শোধ করব ।
-কি যে বলেন ।এটাতো আমার কর্তব্য ছিল ।আচ্ছা আজকে আমি আসি ।
.
.
অতঃপর অধরাসহ সবাই চলে গেল ।সপ্তাহ খানেক পড়ে এখন আমি অনেকটাই সুস্থ । এই কয়দিনে অধরা আমাকে অনেকবারই দেখতে এসেছে ।যেহেতু ও আমার ফ্রেন্ডস হিসেবে পরিচয় দিয়েছে সেজন্য কেউ কিছু মনে করেনি ।এখন আমি অনেকটাই সুস্থ । যাই হোক আজ ১৫ দিন পরে আজকে আমি কলেজে যাচ্ছি । কলেজ গেট পার হতেই অনেকের অনেক প্রশ্ন ।
.
.
-ভাইয়া এতদিন কোথায় ছিলেন ।
-শুনলাম আপনার নাকি এক্সিডেন্ট হয়েছিল ।
-এখন আপনার শরীর কেমন ?
.
আরও অনেক অনেক প্রশ্ন ।উত্তর দিতে দিতে মনে হচ্ছে আমি যেন বিসিএস এর ভাইবা দিতে এসেছি । অতঃপর কেথা থেকে অধরা এসে হাজির ।আজকে অনেক চেন্ঞ্জ ।জিন্স ছেড়ে সালোয়াড় কামিজ ।হাতে চুড়ি,কপালে টিপ ।একদম অন্যরকম লাগছিল ।
.
.
-কি খবর কেমন আছো ?
-জ্বী ভালো ।এখন আপনার শরীর কেমন ?
-এখন পুরোপুরি সুস্থ ।তা তোমার এই অবস্থা কি করে ।
-এই অবস্থা বলতে ?
-না মানে তোমার পোশাকের কথা বলছি ।
-কেন খারাপ লাগছে নাকি দেখতে?
-না ।তবে তুমি তো জিন্স শার্ট পড়তে ।তা সেগুলো ছেড়ে হঠাত্ দেশি পোশাক?
-একজনের নাকি এসব জিন্স,টপ পড়া পছন্দ না ।তাই এই পোশাক পড়বো এখন থেকে ।
-গুড ডিসিশন ।তা একজন বলতে ?
-আছে একজন ।
-ও বয়ফ্রেন্ড নাকি ?
-হুম ।ফিউচার বয়ফ্রেন্ড ।
-ঠিক বুঝলাম না ।
-এত বুঝে কি করবেন ।যান মন দিয়ে পড়ালেখা করেন ।পরীক্ষাতো সামনেই ।
.
.
একটা ঝাড়ি দিয়ে চলে গেল ।তবে ঐ একজনের মানেটা আমার কাছে অজানা ।
.